সময়ের কণ্ঠস্বর : অর্ধশত মাদক সম্রাজ্ঞী নিয়ন্ত্রণ করছে রাজধানীর মাদক ব্যবসা। উত্তরাধিকার সূত্রেই এদের উত্থান। আর নারী হওয়ার কারণে একটু আলাদা সুবিধাও পাচ্ছে তারা। মহাজনদের সঙ্গে ডিল, ক্রেতাদের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেয়া থেকে শুরু করে ব্যবসার নানা তৎপরতা এরা প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অধীনে কাজ করে বেশিরভাগ নারী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) কনক কুমার নিয়োগি জানান, নানা কারণে নারীরা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। যত সহজে একজন নারী মাদক বহন করতে পারে একজন পুরুষের পক্ষে তা সব সময় সম্ভব হয় না। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কারণেও নারীরা এ অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। কাওরান বাজার বস্তিতে অনেক নারীকে ২০/২৫ বারও আটক করা হয়েছে, যারা বারবার জামিন পেয়ে আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করছে। এটা ভেবে দেখার বিষয় বলে মনে করেন তিনি।
গোয়েন্দা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকসম্রাজ্ঞী হিসেবে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- গুলশানে মৌ, বারিধারায় নাদিয়া ও যূথী, বনানী সাততলা বস্তিতে সীমা, লালবাগে মনোয়ারা, উত্তরায় গুলবাহার ও মুক্তা, ইসলামবাগে ছাফি, কড়াইল বস্তিতে রীনা, জোসনা ও বিউটি, আনন্দবাজার বস্তিতে বানু, গনকটুলিতে মনেয়ারা বেগম ও নাছিমা, শ্যামপুরে ফজিলা, রানী বেগম ও পারুলী, শাহীনবাগে পারভীন, পাইন্যা সর্দার বস্তিতে রেনু, নিমতলী বস্তিতে সাবিনা ও পারুল, মিরপুরে জেসমিন, রামপুরায় শিলা, বনানীতে আইরিন ওরফে ইভা, হাজারিবাগে স্বপ্না, মহাখালীতে জাকিয়া ওরফে ইভা ও রওশন আরা বানু, কলাবাগানে ফারহানা ইসরলাম তুলি, শাজাহানপুরে মুক্তা, চানখারপুলে পারুল, বাড্ডায় সুমি এবং রামপুরায় সীমা, কাওরান বাজার বস্তিতে পারভীন, খোদেজা বেগম ওরফে খুদি, মরিয়ম বেগম ও পুঁটি, কদমতলীর বৌবাজারে জাহারানা ওরফে পাগলনি অন্যতম। এর এসব এলাকায় মাদকদ্রব্য আমদানি ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মানজারুল ইসলাম জানান, নারীরা প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধের সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসা করছে। যখন তখন যেখানে সেখানে তাদের দেহ তল্লাশি করা যায় না। আবার সব অভিযানে নারী পুলিশও থাকে না। নারী মাদক ব্যবসায়ীরা সাধারণত পরিবারের পুরুষ সদস্যদের হাত ধরেই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের ডেমরা সার্কেলের পরিদর্শক ফজলুল হক খান অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘এক সময় দেশে হেরোইন ব্যবসার সিংহভাগের নেতৃত্বে ছিল নারী। হেরোইনের ব্যবহার কমে যাওয়ার সাথে সাথে কমে যায় নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও। কিন্তু এখন ইয়াবার প্রভাব বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ইয়াবা একসাথে অনেকগুলো বহন করা যায়। আর এ কাজে নারীরা তাদের দেহের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অংশে সহজেই ইয়াবা বহন করতে পারে। পুলিশের পক্ষেও সবসময় তাদের দেহ তল্লাশি করা সম্ভব হয় না। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছে তারা।
তিনি জানান, পরিবারের হাত ধরে নারীরা মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত হচ্ছে। এরকম অনেককে তারা হাতে নাতে ধরেছেন, যেখানে বাবার মাদক ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে মেয়ে কিংবা তার স্ত্রী। আবার পরিবারের পুরুষ সদস্যটি আটক হওয়ার পর তার মাদক ব্যবসার হাল ধরে স্ত্রী। কারণ স্বাভাবিকভাবেই স্বামীর মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে স্ত্রীদের ভালো জানা থাকে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, রামপুরায় মাদক ব্যবসায়ী রিয়াদের স্ত্রী শিলা অন্যতম একজন নারী মাদক ব্যবসায়ী। মিরপুরে জেসমিন মাদক ব্যব্সায় আসে তার স্বামী শহিদুলের হাত ধরে।




No comments :
Post a Comment